🙏 जीवन में कुछ पाना है तो झुकना होगा, कुएं में उतरने वाली बाल्टी झुकती है, तब ही पानी लेकर आती है| 🙏
Homeবাংলাভগবান হনুমান সম্পর্কিত কথাকাশী নরেশের প্রাণ রক্ষা – ভগবান হনুমান সম্পর্কিত কথা

কাশী নরেশের প্রাণ রক্ষা – ভগবান হনুমান সম্পর্কিত কথা

काशी नरेश की प्राण रक्षा (भगवान हनुमान जी की कथाएँ) - शिक्षाप्रद कथा

একবার হনুমান নিজের প্রভু শ্রীরামের থেকে নিজের মাতা অঞ্জনার সাথে দর্শন হেতু যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। প্রভু তাঁকে সহর্ষে অনুমতি প্রদান করলেন।

হনুমান নিজের মার সঙ্গে দর্শন হেতু যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, সেই সময় কাশী নরেশ শ্রীরামের সঙ্গে দর্শন করবেন বলে আসছিলেন। পথে তাঁর সাথে দেবর্ষি নারদের দেখা হল। কাশী নরেশ ভক্তি পূর্বক দেবর্ষির চরণে প্রণাম করলেন। নারদ জিজ্ঞাসা করলেন-” তুমি কোথায় যাচ্ছ কাশী নরেশ?”

কাশী নরেশ উত্তর দিলেন- “দেবর্ষি! আমি প্রভু শ্রীরামের দর্শন হেতু তাঁর রাজসভায় যাচ্ছি।”

এটা শুনে নারদ বললেন-” আমার একটি কাজ করবে?”

কাশী নরেশ তৎক্ষণাৎ বললেন-“ঋষিবর! পৃথিবীতে এমন কোন্ পুরুষ আছে, যে আপনার আদেশ পালন করার জন্য তৎক্ষণাৎ দৌড়ে আসবে না? আপনি আদেশ প্রদান করুন।”

নারদ হেসে বললেন-” তুমি রাজসভায় প্রভু শ্রীরামের চরণ-কমলে শ্রদ্ধা- ভক্তিপূর্বক প্রণাম তো অবশ্যই করবে, কিন্তু তাঁরই সম্মুখে সিংহাসনে বিরাজমান বৃদ্ধ তপস্বী বিশ্বামিত্রকে উপেক্ষা করবে। ওনাকে প্রণাম করবে না।”

কাশী নরেশ প্রশ্ন করলেন-“এমন কেন ঋষিবর?”

নারদ উত্তর দিলেন-“এই কেন-র উত্তর আপনি পরে পেয়ে যাবেন।”

“নারায়ণ হরি।” বলে নারদ চলে গেলেন এবং কাশী নরেশ শ্রীরামের সভায় পৌঁছলেন। তিনি দেবর্ষির আদেশানুসারে শ্রীরামের চরণে শ্রদ্ধাপূর্বক প্রণাম করলেন, কিন্তু মহর্ষি বিশ্বামিত্রকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে বসে পড়লেন।

কাশী নরেশের  এই উপেক্ষায় মহর্ষি বিশ্বামিত্রের হৃদয়ে খুবই আঘাত পৌঁছলো, কিন্তু তিনি রাজসভায় নির্বাক রইলেন। পিছনে গিয়ে তিনি শ্রীরামকে বললেন- ” শ্রীরাম! তুমি মর্যাদা পুরুষোত্তম হিসেবে পরিচিত , এই কারণে তোমার রাজসভায় তোমার উপস্থিতিতে মর্যাদার অবহেলা উচিত নয়।”

মহর্ষি বিশ্বামিত্রের কথা শুনে প্রভু শ্রীরাম আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন – “গুরুদেব! আমার উপস্থিতিতে কখন এবং কোথায় মর্যাদা ভঙ্গ হয়েছে। আপনি কৃপা করে বলার কষ্ট করুন।”

বিশ্বামিত্র বললেন- “আজই রাজসভায় কাশী নরেশ তোমার চরণে তো প্রণাম করলেন, কিন্তু আমায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। ইহা কখনই উচিত নয়।”

“আমার রাজসভায়, আমারই সামনে আপনার উপেক্ষা? ইহা তো আমার ভয়ানক তিরস্কার।” ভগবান শ্রীরামের ভ্রুকুটি বক্র হয়ে গেল। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন – “আপনার সম্মুখে আমি আমার তিনটি তীক্ষ্ণতম বাণ পৃথক করে রেখে দিচ্ছি। এই তিনটি বাণের দ্বারা আজ সন্ধ্যার মধ্যে কাশী নরেশের মৃত্যু হবে।”

এই তিনটি বাণের দ্বারা আজ সন্ধ্যার মধ্যে কাশী নরেশ মারা যাবেন। পরম পরাক্রমী শ্রীরামের এই প্রতিজ্ঞা বায়ুর বেগে সর্বত্র ছড়িয়ে গেল। ইহা শুনে কাশী নরেশের কন্ঠ শুকিয়ে গেল। জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে তিনি দৌঁড়ে নারদের নিকট গেলেন এবং তাঁর পায়ে পড়ে বললেন – “দেবর্ষি! সত্য প্রতিজ্ঞ শ্রীরাম আজ সন্ধ্যার মধ্যে আমাকে মেরে ফেলার প্রতিজ্ঞা করেছেন।”

“প্রতিজ্ঞাতো আমিও শুনেছি।” দেবর্ষি নারদ তটস্থ হয়ে উত্তর দিলেন – “আর শ্রীরামের প্রতিজ্ঞা? সর্ব পরিচিত আছে যে রঘুকূলে প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিতে আপত্তি হয় না।”

কাশী নরেশ কেঁদে ফেললেন। বললেন- “দেবর্ষি! আমি তো আপনার আদেশ পালন করেছিলাম। যেভাবেই হোক, আপনি আমার প্রাণ বাঁচান।”

নারদ কাশী নরেশকে বুঝিয়ে বললেন-” আপনি চিন্তা করবেন না। মৃত্যু তো নিশ্চিত হয়। তা কোনো প্রকারে বদলায় না। যদি ভগবান শ্রীরামের বাণের দ্বারা প্রাণ পাখি উড়ে যায় তবে নিশ্চিতই জীবন সফল হয়ে যাবে, কিন্তু তুমি একটি কাজ করো।” নারদ কাশী নরেশকে ধীরে ধীরে বললেন – “তুমি হনুমানের মাতা অঞ্জনার কাছে গিয়ে তাঁর পা ধরো। যখন তিনি পা ছাড়াতে লাগবেন, তখন তুমি নিজের রক্ষার জন্য প্রতিজ্ঞা আদায় করে নেবে । যতক্ষণ না তিনি তিনবার তোমাকে রক্ষা করার জন্য কথা না দেন, ততক্ষণ তুমি তাঁর চরণ ধরে থাকবে। ব্যাস, তোমার কাজ হয়ে যাবে।”

নারদের কথা শুনে কাশী নরেশ দৌড়ে-দৌড়ে মাতা অঞ্জনার কাছে গেলেন। মাতা অঞ্জনা বসে ভগবান রামের জপ করছিলেন। কেঁদে-কেটে কাশীরাজ মাতার চরণে লুটিয়ে পড়লেন। তাঁর চরণ ধরে তিনি বললেন – “মা! আমার রক্ষা করুন। আজ সন্ধ্যার মধ্যে একজন সমর্থ ব্যক্তি আমায় মেরে ফেলবার প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন। আপনাকে ছাড়া আমার প্রাণ আর কেউ বাঁচাতে পারবে না। রক্ষা করুন মা, রক্ষা করুন।”

মাতা অঞ্জনা বললেন- “কে এবং কেন তোকে আজ সন্ধ্যার আগেই মেরে ফেলার প্রতিজ্ঞা নিয়েছে?”

কাশী নরেশ বললেন – “মা তুমি আমাকে রক্ষার প্রতিজ্ঞা করো, অন্যথা আমি এখনই তোমার চরণেই প্রাণ ত্যাগ করব।”

বাৎসল্যময় সরল জননী বললেন – “আমি তোর প্রাণ রক্ষার জন্য কথা দিচ্ছি।”

ভীষণ কাঁদতে-কাঁদতে কাশী নরেশ অধীর হয়ে পুনরায় প্রার্থনা করলেন – “মা! আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। আমার বিশ্বাসের জন্য তুমি এই কথাটা তিনবার বলে দাও। “

“আমি তোর প্রাণ রক্ষার জন্য কথা দিচ্ছি।” সম্পূর্ণ সরল দয়াময়ী জননী এই কথা তিনবার বলার পর বললেন – “আচ্ছা, এবার তো বল তোকে মারবার জন্য কে প্রতিজ্ঞা নিয়েছে?”

কাশী নরেশ বললেন – “ভগবান শ্রীরাম। তিনি আজ সন্ধ্যার মধ্যে আমায় বধ করার প্রতিজ্ঞা করেছেন এবং এর জন্য তিনি নিজের তিন তীক্ষ্ণ বাণও বাহির করে পৃথক করে রেখেছে।”

ইহা শুনে মাতা অঞ্জনা চিন্তিত হয়ে বললেন – “শ্রীরামের প্রতিজ্ঞার কিভাবে অন্যথা হতে পারে? কিন্তু আমি তোকে কথা দিয়েছি, অতঃপর প্রচেষ্টা তো করবোই।”

সেই সময় হনুমান সেখানে পৌঁছে মাতার চরণ স্পর্শ করলেন। আশীর্বাদ দিয়ে মা বললেন – “পুত্র! তুমি সঠিক সময় এসেছো। এখনই আমি এক জরুরী কাজের জন্য চিন্তিত হয়ে তোমাকেই স্মরণ করছিলাম। সেই কাজটি হয়ে গেলে আমার মন হালকা হয়ে যাবে।”

হনুমান বললেন – “আদেশ করুন মাতা। আপনার কাজ করার জন্য তো আমি সর্বদা প্রস্তুত আছি।”

মাতা অঞ্জনা বললেন – “কিন্তু কাজটি তো কঠিন পুত্র! এই কারণেই আমি চিন্তিত হয়ে গেছি।”

মাতা অঞ্জনার কথা শুনে হনুমান তাঁকে আশ্বস্ত করার জন্য বললেন-” আপনার কৃপায় আপনার পুত্র বিদ্যা, বুদ্ধি, বল-পুরুষত্ব এবং পরাক্রম সম্পন্নই শুধু নয় তাঁর ওপর নিখিল ভুবনপতি শ্রীরামের অপার করুণার বৃষ্টিও অনবরত হয়ে চলেছে। আপনি আদেশ প্রদান করুন।”

মাতা অঞ্জনা বললেন – “এই সব কিছু আমি জানি, আমার প্রিয়! কিন্তু কাজটি অত্যন্ত কঠিন, এই কারণে বলার জন্য ইতস্তত বোধ করছিলাম।”

“মাতা! আপনার পবিত্র চরণের সম্মুখে আমি একবার নয়, তিনবার প্রতিজ্ঞা করছি যে আপনার আদেশ পাওয়ার পর কাজটি যতই কঠিন হোক না কেন, আমি সেটিকে অবশ্যই সম্পূর্ণ করে আপনার চিন্তা দূর করব।”

মা অঞ্জনা হনুমানের বল,পরাক্রম এবং তাঁর মাতৃভক্তির প্রশংসা করতে করতে বললেন – “পুত্র! আমি তোমার থেকে এটাই আশা করেছিলাম এবং এমনই বিশ্বাস ছিল। পুত্র! আমি কাশী নরেশকে তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য কথা দিয়ে দিয়েছি। আজ সন্ধ্যার মধ্যে শ্রীরাম তাঁকে বধ করার জন্য প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন এবং এর জন্য তিনি তিনটি তীক্ষ্ণ বাণও বের করে পৃথক রেখে দিয়েছেন।”

মাতার কথা শুনে হনুমান আশ্চর্য হয়ে বললেন – “আমার প্রভু শ্রীরামের প্রতিজ্ঞা…?”

মাতা অঞ্জনা এর মাঝেই বলে বসলেন – “কিন্তু পুত্র! আমি কাশীরাজকে কথা দিয়ে দিয়েছি এবং তুমি আমাকে তিন বার কথা দিয়েছো। শরণাগতর রক্ষা করা আমাদের ধর্ম পুত্র!”

হনুমান বললেন-“ঠিক আছে মা! আমি কিছু একটা করছি। ইহা বলে হনুমান মায়ের চরণে প্রণাম করে তাঁর থেকে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন।”

মাতার আদেশ প্রাপ্ত হতেই হনুমান কাশি নরেশের সাথে অযোধ্যা পৌঁছলেন। সেখানে তিনি কাশি নরেশকে বললেন-“রাজন! তুমি সকল কলুষ নাশিনী পরম পবিত্র সরযুতে কোমর পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে থেকে অবিরাম রাম-রাম বলে জপ করতে থাকো।”

কাশি নরেশ পবনপুত্রের আদেশ পালন করতে আরম্ভ করলেন এবং হনুমান তৎক্ষণাৎ শ্রীরামের সম্মুখে পৌছলেন। সেখানে তিনি ভগবান শ্রীরামের চরণে প্রণাম করে তাঁর দুটি চরণ ধরে বললেন-“স্বামী! আজ আমি আপনার থেকে একটি বর প্রার্থনা করতে চাই।”

এটি কি করে সম্ভব হতে পারে যে সবসময় নি:স্পৃহ এবং অত্যন্ত সংকোচি হনুমান কখনো কিছু চাইবেন এবং প্রভু তা অস্বীকার করে দেবেন? শ্রীরাম উৎসাহপূর্বক বললেন – “তোমার জন্য অদেয় কিছু নেই হনুমান! তুমি তো কখনো কিছু চাওই না। আমি তো সর্বদা চাই যে তুমি আমার থেকে কিছু চাও, কিছু প্রার্থনা করো, কিন্তু আমার এই ইচ্ছা পূরণ তোমার দ্বারা হয়ে ওঠে না। বলো, তুমি কি চাও?”

প্রসন্ন হয়ে হনুমান প্রভুর চরণের সম্মুখে বসে বললেন – “প্রভু! আমি চাই আমি যেন আপনার অমিত মহিমাময় নামের জপরত ব্যক্তির সর্বদা রক্ষা করব এবং আমার উপস্থিতিতে আপনার নামের জপরত কারোর ওপর কেউ কখনো কোন প্রকারের প্রহার না করে। যদি দুর্ভাগ্যবশত নিখিল সৃষ্টির সর্বসমর্থ স্বামীও প্রহার করে বসে তবে তারও প্রহার যেন ব্যর্থ যায়।”

ভগবান শ্রীরাম শীঘ্রই আশীর্বাদ দিয়ে বললেন-” তুমি নাম জপরত ব্যক্তির রক্ষা করতে সর্বত্র সবসময় সমর্থ হবে এবং অমোঘ প্রহারও ব্যর্থ প্রমাণিত হবে।”

“জয় শ্রীরাম।” এই বলে হনুমান প্রভুর চরণে মাথা রাখলেন এবং শীঘ্রই সরযু তটে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি গদা ধারণ করে অত্যন্ত সাবধানে দাঁড়ালেন এবং কাশী নরেশকে বললেন- “তুমি না থেমে নিরন্তর ‘রাম-রাম’ জপ করতে থাকো।”

পরিস্থিতি বিচিত্র হয়ে গেল।একদিকে সর্বের আধার স্বামী শ্রীরামের সন্ধ্যার মধ্যে নরেশকে বধ করার প্রতিজ্ঞা এবং অন্যদিকে অনন্য ভক্ত হনুমানের তাঁকে রক্ষা করবার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে যাওয়া। রাজা সরযুর জলে দাঁড়িয়ে প্রাণের ভয়ে অনবরত রূপে ‘রাম’ নাম জপ করতে লাগলেন এবং বর প্রাপ্ত হনুমান তাঁকে রক্ষার জন্য গদা ধারণ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। ঘটনাটি বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পরলো। অযোধ্যাবাসীরা সমস্ত আবাল, বৃদ্ধ, নর নারী কৌতুহলের বশে সরযুর তটে এসে পৌঁছলেন। প্রভু এবং সেবকের এই প্রতিজ্ঞা পালনের দৃশ্য দেখবার জন্য বিশাল জন সমুদায় একত্র হয়ে গেল।

সন্ধ্যা হয়ে গেছিল। এই সমাচার ভগবান শ্রীরাম পেলেন। ইহা শুনে তিনি কুপিত হয়ে গেলেন। তিনি নিজের প্রতিজ্ঞা পালনের জন্য পৃথক করে রাখা তিনটি বাণের মধ্যে থেকে একটি বাণ ওঠালেন এবং নিজের ধনুকের উপর রেখে ধনুকের দড়িটি কান পর্যন্ত টানলেন এবং বাণটি ছেড়ে দিলেন। কিন্তু তাঁকে রাম নামের জপ করতে দেখে সেই বাণ তাঁর মস্তক ছিন্ন করতে পারলো না। তিনি নরেশের চুপ হওয়ার জন্য প্রতীক্ষা করতে লাগলেন, কিন্তু হনুমানের দ্বারা দীক্ষিত নরেশ প্রাণ ভয়ে অবিরাম সমস্ত শক্তি লাগিয়ে ‘রাম-রাম’ জপেই যাচ্ছিলেন।

নিরাশ হয়ে বাণটি প্রভু শ্রী রামের কাছে ফেরত চলে এলো। সে নিবেদন করল-“প্রভু! নাম জপরত ব্যক্তির সর্বত্র রক্ষার জন্য হনুমানকে  বর প্রদান করেছিলেন এবং তার উপর সকল প্রকার প্রহার ব্যর্থ সিদ্ধ হবার আপনার বাণী ছিল। সেই রাজা নিরন্তর আপনার নাম জপ করছেন এবং বজরঙ্গবলী হনুমান গদা ধারণ করে তাঁকে রক্ষা করতে তৎপর রয়েছেন। এই কারণে আমি হতাশ হয়ে ফেরত এসেছি।”

ইহা শুনে শ্রীরাম রেগে উঠলেন। তিনি দ্বিতীয় বাণ ধনুকের ওপর চড়িয়ে ছাড়লেন। তা বায়ুবেগের গতিতে চললো এবং কাশী নরেশের প্রাণ হরণ করতে তাঁর সম্মুখে পৌঁছালোও, কিন্তু এবার তো কাশী নরেশ হনুমানের আদেশ অনুসারে সীতার সহিত নাম ‘সীতারাম-সীতারাম’ এর জপ করছিলেন।

দ্বিতীয় বাণটিরও নরেশের কন্ঠ স্পর্শ করার অবসরপ্রাপ্ত হলো না। হতাশ হয়ে তাওও প্রভু রামের  কাছে ফেরত এলো। সেটিও কাশী নরেশের ‘সীতারাম-সীতারাম’ জপের এবং গদাধর হনুমানের দ্বারা তাঁকে রক্ষার বৃত্তান্ত শোনালো।

“আমি স্বয়ং সরযু তটে গিয়ে ওই ধৃষ্ট নরেশ এবং হনুমানকেও মেরে ফেলবো।” সত্য প্রতিজ্ঞ ভগবান শ্রীরাম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি নিজের বিশাল ধনুক তথা তৃতীয় বাণটি নিলেন এবং সরযু তটের দিকে তীব্র গতিতে প্রস্থান করলেন।

এইদিকে হনুমান ভাবলেন, ‘প্রভু নিজের মঙ্গলময় নামের বিরদ রাখেন, ভক্তদের জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করতে পারেন। ভক্তরা তাঁর প্রাণপ্রিয়।’ অতএব তিনি কাশী নরেশকে বললেন-“এবার তুমি ভগবতী সীতা এবং প্রভুর নামের সাথে আমার নামেরও জপ করা আরম্ভ করে দাও।”

রাজা ‘জয় সীতারাম জয় জয় হনুমান’ এর জপ করতে লাগলেন। অনেক সময় পর্যন্ত জোরে জোরে নাম জপ করতে করতে নরেশ ক্লান্ত হয়ে গেলেন এবং তাঁর বাণী এদিক ওদিক হতে লাগলো। তিনি তো মৃত্যু ভয়ে অত্যন্ত সাহসের সাথে যেভাবে হোক নাম জপ করা চালাচ্ছিলেন, কিন্তু মাতৃভক্ত হনুমান নিজের একটি অংশের দ্বারা কাশীরাজের কন্ঠে প্রবিষ্ট হয়ে ‘জয় সীতা রাম জয় জয় হনুমান’ এর অনবরত রূপে জপ করতে লাগলেন।

ক্রুদ্ধ অবস্থায় শ্রীরামকে আসতে দেখে বশিষ্ঠ ঋষি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। তিনি ভাবলেন, ‘ভগবান শ্রীরামের প্রতিজ্ঞার অন্যথা হতে পারে না এবং যদি তিনি নরেশের সাথে হনুমানকেও মেরে ফেলেন তবে মহা অনর্থ হয়ে যাবে।’ তখন হনুমানের কাছে গিয়ে বশিষ্ঠ ঋষি তাঁকে বোঝাবার জন্য চেষ্টা করলেন-“পবন কুমার! শ্রীরাম তোমার সর্বস্ব। তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়ে যেতে দাও। নিতান্ত সম্মুখীন হওয়ার কারণে তাঁর রাগ বেড়েই চলেছে। এই রাজা তো শ্রী রামের পবিত্র বাণের স্পর্শে জন্ম মৃত্যু থেকে সর্বদার জন্য মুক্ত হয়ে যাবে। একজন রাজা হিসেবে নিজের স্বামীর সম্মুখে গদা ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা তোমার মত সেবকের জন্য কখনই উচিত নয়।”

হনুমান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন-“গুরুদেব! আমি ত্রিলোকেও আমার সর্ব সমর্থ প্রভুর সামনে গদা ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকার কথা কল্পনাও করতে পারি না। আমি তো আমার প্রভুর নাম এবং তাঁর বরদানের রক্ষার জন্য প্রাণের আহুতি পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত আছি। আমার এর থেকে অধিক সৌভাগ্য আর কি বা হতে পারে যে আমি আমার প্রাণের অধিক প্রভু শ্রীরামের নাম এবং তাঁর বরদানের রক্ষার জন্য তাঁরই করকমলের দ্বারা নির্গত সেই বাণের দ্বারা শরীর ত্যাগ করে তাতেই বিলীন হয়ে যাই।”

বশিষ্ঠ ঋষি  ভাবলেন,’এই জ্ঞান মূর্তিকে বিচলিত করা সম্ভব নয়। তখন তিনি দেখলেন শ্রীরাম সরযূর তটে পৌঁছতে চাইছেন। মহর্ষি বিশ্বামিত্রও সেখানে উপস্থিত থেকে ভগবান এবং ভক্তের এই লীলা দেখে চকিত এবং চিন্তিত হচ্ছিলেন। তখন বশিষ্ঠ ঋষি কাশীরাজকে বললেন-” নরেশ! তুমি শীঘ্রই মহর্ষি বিশ্বামিত্রের চরণ ধরো। তিনি সহজ দয়ালু ব্যক্তি।”

‘জয় সীতারাম জয় জয় হনুমান’ এর জপ করতে করতে কাশীরাজ দৌঁড়ে মহর্ষি বিশ্বামিত্রের চরণ ধরে নিল।তাঁর অশ্রুর দ্বারা মহর্ষির চরণ আদ্র হয়ে গেল।তা দেখে মহর্ষি বিশ্বামিত্র দ্রবিত হয়ে গেলেন। তিনি শরসংধান রত ক্রুদ্ধ শ্রীরামকে বললেন-” শ্রীরাম! কাশী নরেশের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি।এবার তুমিও নিজের অমোঘ বাণ ধনুক থেকে উঠিয়ে তুণীরে রেখে দাও।”

মহর্ষি বিশ্বামিত্রকে সন্তুষ্ট হতে দেখে শ্রীরামের ক্রোধ নিজে নিজেই শান্ত হয়ে গেল। তিনি গুরুর আজ্ঞা পালন করলেন। তৃতীয় বাণটি ধনুক থেকে তুণীরে ফেরত চলে এল। রাজার প্রাণরক্ষা তো হলোই, ভগবানের সম্মুখে ভক্ত হনুমান বিজয়ী হলেন। এই সমাচার শুনে মাতা অঞ্জনার প্রসন্নতার কোনো সীমা রইল না।

 

Translation By:
Poulami Poddar
poulamipoddar8@gmail.com

NO COMMENTS

LEAVE A COMMENT

🙏 ♻ प्रयास करें कि जब हम आये थे उसकी तुलना में पृथ्वी को एक बेहतर स्थान के रूप में छोड़ कर जाएं। सागर में हर एक बूँद मायने रखती है। ♻ 🙏